বিএনপির দিক নির্দেশনায় জাতির জন্য ভালো কিছু নেই তাই বিএনপি ছেড়ে এসেছি। যেভাবে সাধারণ খেটে মানুষকে ডেভিল আখ্যা দিয়ে গ্রেফতার করা হচ্ছে এতে ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়ে ভোট দিতে আসবেনা মানুষ। প্রশাসন মনে করছে বিএনপি ক্ষমতায় চলে এসেছে তাজ বিএনপিকে প্রায়োরিটি দিচ্ছে। এতে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকছেনা। ৮ দলীয় জোট মনোনয়ন না দিলে নির্বাচন করবেন না বলে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ ১ আসনে বার বার দল বদল করে বর্তমানে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনিত প্রার্থী ডা. রফিকুল ইসলাম।
শুক্রবার একান্ত আলাপচারিতায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমি সাধারণ মানুষের রাজনীতি করি। একসময় বিএনপির রাজনীতিতে বিএনপি’র জন্ম লগ্ন থেকে ছিলাম, ২০০৮ সালে বিএনপি থেকে প্রার্থীও ছিলাম। বিএনপি নেতৃত্বের নির্দেশিত যে আন্দোলন ছিল, ১৪ সালে নির্বাচন বয়কট করা, পরবর্তী পর্যায়ে আন্দোলন সংগ্রাম। আমি জেল খেটেছি, মামলার শিকার হয়েছি, ত্যাগ তিতিক্ষা কম ছিল না। ৪০ বছর ২ মাস ১৭ দিন আমি বিএনপি’র সাথে ছিলাম। কিন্তু বিএনপি’র যে দিকনির্দেশনা আমাদের জাতিকে খুব ভালোভাবে তারা দেখাতে পারে নাই। আমি পরবর্তী পর্যায়ে রাগে ক্ষোভে বিএনপি ত্যাগ করি। এখন আমার বয়স হয়ে গেছে প্রায় ৭০। আমি পরকালের কাজ করতেছি। আমি দিন দুনিয়ার কাজ করি, মানুষের সেবা করি, সেই হিসেবে আমি মনে করি যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ দিন দুনিয়ার কাজ করার জন্য বেস্ট সংগঠন। সেজন্য আমি ১২ নভেম্বর চরমোনাইয়ের পীর সাহেবের হাত ধরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে যোগদান করি। মানুষ আমাকে অন্যভাবে বিশ্বাস করে, এবং জানে ডাক্তার সাহেব সৎ। অসাধু না, কোন খারাপ কাজ করেনা। সেজন্যে আমি যেই ফর্মে যেভাবেই আসি না কেন মানুষ আমাকে ভোট দেবে, এটা আমার বিশ্বাস। আর বাংলাদেশের রাজনীতি এখন দুইভাবে বিভক্ত হয়ে গেছে ২৪ এর বিপ্লব বলেন, আর অভ্যুথান বলেন যেভাবেই হোক বাংলাদেশের মানুষের রাজনীতি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। বিএনপি এবং তার সহযোগীরা একদিকে আর ইসলামী মূল্যবোধের পার্টিগুলো একদিকে। ইসলামী সমঝোতার যে জোটের রাজনীতি এক বাক্স নীতিতে ভোট দেওয়ার একটা পলিসি নিয়ে তারা আগাচ্ছে। আমার সমঝোতার ইসলামী জোট যদি আমাকে মনোনয়ন দেয় আমার বিশ্বাস আমার ভোটাররা বিপুল ভোটে আমাকে নির্বাচিত করবে। পাঁচই আগস্ট পরে রাতারাতি আওয়ামী লীগের স্থান দখল করে নিয়েছে বিএনপি। চাঁদাবাজি বলেন অন্যান্য কাজ কাম বলেন সবগুলায় মনে হয় তারা রাষ্ট্রক্ষমতা চলে আসছে। আর প্রশাসন সর্বক্ষেত্রে তাদেরকে প্রায়োরিটি দিচ্ছে, এতে লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড যেটা সেটা হবে না। এজন্য প্রশাসনকে আরো নিরপেক্ষ হতে হবে এবং সকলকে সমানভাবে ট্রিট করতে হবে। না হলে ২৪ আগস্টে যেমন বিপ্লব হয়েছে, আন্দোলন হয়েছে, অভ্যুত্থান হয়েছে, বিএনপিকেও এমন একটা অভ্যুত্থান মোকাবেলা করতে হবে। কর্মজীবী শ্রমজীবী যারা ক্ষেতে কাজ করতেছে বিএনপির কথায় পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠাচ্ছে। এভাবে তো লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড হবে না। ভোটারা ভোট কেন্দ্রে যাবে না, একটা আতঙ্ক বিরাজ করতেছে। আমি আপনাদের মাধ্যমে প্রশাসনকে বলবো, সাধারণ পর্যায়ে যেন কোন আতঙ্ক তৈরি না করে, তাহলে নির্বাচন সুষ্ঠু সুন্দর অবাধ হবে। জোট মনোনয়ন না দিলে নির্বাচন করবেন কি না এমন প্রশ্নে নির্বাচন না করার কথা জানান তিনি।
সূত্র : দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর
প্রযুক্তি সহায়তায়: softhost
Leave a Reply